অনলাইনে রেলের টিকেট কিভাবে কাটবেন

অনলাইনে রেলের টিকেট কাটার নিয়ম – একটি দেশের যোগাযোগের ব্যবস্থা যতো উন্নত সে দেশের উন্নয়ন ততো ভালো হয়ে থাকে। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মানুষ খুব দ্রুত এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় যেতে পারেন। এতে যেমন সময়ের সাশ্রয় হয় তেমনি যাতায়াত খরচও কম হয়। পৃথিবীর যে সকল দেশে রেল যোগাযোগ আছে সেখানে মানুষজন রেলভ্রমনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ এটি শুধুমাত্র সাশ্রয়ী নয় বেশ আরামদায়ক ভ্রমনও বটে। কিন্তু অনেক সময় রেলরুট দীর্ঘ ও একলাইন হবার কারনে সময় বেশিও লেগে যায়। তাই অন্যান্য যেকোন যাতায়াত ব্যবস্থার চেয়ে রেলযোগাযোগ সকলের প্রিয়।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রেল যোগাযোগ আছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ নভেম্বর ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এর প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। অত্র প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের রেলমন্ত্রণালয় অধীনে রেল অধিদপ্তর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। বৃটিশ শাসনামলে বাংলাদেশে রেলযুগে প্রবেশ করেছিলো, বর্তমানে এটি দুটি ভাগে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে একটি হলো পশ্চিমাঞ্চল ও আরেকটি পূর্বাঞ্চল। যদিও এতো বছর বাংলাদেশ সেই বৃটিশ আমলে সৃষ্ট রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের রুট পরিচালনা করে এসেছিলো। বিগত কয়েক বছরে নানান প্রজেক্টের মাধ্যমে হাজারো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, এতে যেমন রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে ঠিক তেমনি সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইন ও মিটারগেজ এবং ব্রডগেজের মতো ডুয়ালগেজের রেললাইন ও সংযুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবায়িত বড় প্রজেক্টগুলোর অন্যতম হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এর ডুয়ালগেজের ডাবল লাইন, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন। পদ্মা ব্রিজ রেল নেটওয়ার্ক যা ঢাকা হতে যশোরের দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া যমুনা নদীতে চলছে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাজ। এতে করে বর্তমানে যমুনা ব্রিজের উপরে চাপ কমে যাবে। যার ফলে সারাদেশের রেলপথে দ্রুতগামী ট্রেন চলাচল করতে পারবে, আর বেড়ে যাবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।

অনলাইনে রেলের টিকেট কিভাবে কাটবেন

যেকোন সময়ে ভ্রমনকারীরা নানান বাহনে তাদের গন্তব্যে পৌছাতে পছন্দ করে থাকেন, এর মাঝে আকাশপথে বিমান, স্থলপথে বাস, নৌপথে লঞ্চ আর রেলপথ বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট সময়ে এর চাহিদা বেড়ে যায়, বাংলাদেশে মুলত দুটি বড় উৎসবে টিকেটের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর টিকেটের দাম হুড়-হুড় করে বেড়ে যায়। ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহা এই দুটি উৎসবে বেশ ঝামেলা সৃষ্টি হয়ে যায়। কারণ এ সময়ে বাংলাদেশের প্রায় অনেক মানুষ নাড়ীর টানে বাড়ীতে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে পছন্দ করে থাকেন।

এ সময়ে ঘনবসতীপূর্ণ রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বিশেষ করে রেলপথে বেশ চাপ পড়ে, এতে মানুষজন ট্রেনের ভিতরে ও ছাঁদে চড়ে যেতেও দ্বীধাবোধ করেন না। ঈদের আগে তাই বাংলাদেশ রেলওয়ে অগ্রীম টিকেটের ব্যবস্থা করে থাকে। অগ্রীম টিকেটের নির্দিষ্ট দিনে একটি নির্দিষ্ট দিনের টিকেট কেনার সুযোগ পেয়ে থাকেন, এর মাঝে যদিও দীর্ঘ লাইন ধরে মানুষ টিকেট কেনার অপেক্ষায় থাকেন। অনেকে আগের দিন সন্ধায় চলে আসেন কাউন্টারে যদিও টিকেট দেয়া শুরু হয় সকাল ৮ টায়। যা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত, যদিও হতাশ হতে হয় অধিকাংশ টিকেট প্রত্যাশীদের। বাংলাদেশ রেলওয়ে দীর্ঘদিন যাবত অনলাইনে টিকেট বিক্রি করে আসছে। সি এন এস বি ডি দীর্ঘদিন এই সেবা প্রদান করে এসেছিলো। কয়েক মাস আগে সহজ ডট কম এর সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন চুক্তি হয়েছে। সহজ ডট কম যদিও রেলের আগে থেকে বাস ও লঞ্চের টিকেট অনলাইনে বিক্রি করে আসছে।

আগামী কয়েকদিন পর সম্ভবত ১০ জুলাই ২০২২ বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময়ে রেলওয়েতে প্রচুর চাপ যাবে কারণ বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষজন সহজ ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে রেলওয়ে কে বেছে নেয়। এ সময়ে সাধারণ ট্রেনের সাথে বিশেষ ট্রেনের সার্ভিস ও প্রদান করা হয়। তাই যারা ঈদের ট্রেনের টিকেট কিনতে আগ্রহী তারা নিম্নোক্ত তারিখ হতে অনলাইনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েব সাইট ও মোবাইল এপ্সের মাধ্যমে এবং সরাসরি কাউন্টার হতে টিকেট কিনতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পবিত্র ঈদ-উল-আযহার অগ্রীম টিকেট কেনার সময় সূচি
অগ্রীম টিকেট প্রদানের তারিখ
যাত্রার তারিখ
০১ জুলাই ২০২২ ০৫ জুলাই ২০২২
০২ জুলাই ২০২২ ০৬ জুলাই ২০২২
০৩ জুলাই ২০২২ ০৭ জুলাই ২০২২
০৪ জুলাই ২০২২ ০৮ জুলাই ২০২২
০৫ জুলাই ২০২২ ০৯ জুলাই ২০২২

 আপনি চাইলে রেলের ফিরতি টিকেট কাটতে পারবেন নিম্নোক্ত সময়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ফিরতি টিকেট কেনার সময় সূচি
অগ্রীম টিকেট প্রদানের তারিখ
যাত্রার তারিখ
০৭ জুলাই ২০২২ ১১ জুলাই ২০২২
০৮ জুলাই ২০২২ ১২ জুলাই ২০২২
০৯ জুলাই ২০২২ ১৩ জুলাই ২০২২
১১ জুলাই ২০২২ ১৪-১৫ জুলাই ২০২২

অনলাইনে রেলের টিকেট কিভাবে কাটবেন:

অনলাইনে রেলের টিকেট কেনা এখন এক স্বস্তির নাম, কারণ এতে মানুষের সময় ও অর্থ যেমন সাশ্রয় করে, ঠিক তেমনই আপনি ঘরে বসেই বিনা লাইনে খুব সহজেই অগ্রীম টিকেট কিনতে পারছেন। যদিও সবাই অনলাইনে টিকেট কাটতে পারেন না শুধুমাত্র নিয়ম না জানার কারণে, বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারী কয়েক কোটি হলেও খুব কম মানুষই এটির ব্যবহার জানেন, যদিও এতেও টিকেট সহজে মিলে না। বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট যে কেউ কিনতে পারেন রেলওয়ের ওয়েবসাইট হতে অথবা মোবাইল এপস এর মাধ্যমে যার নাম রেল সেবা, যে কেউ গুগল প্লে স্টোর হতে এটি ডাউনলোড করে নিমিষেই রেজিষ্ট্রেশন/ লগইন করে প্রত্যাশিত টিকেট কিনতে পারেন।

কিভাবে রেল টিকেট এর জন্য অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করবেনঃ

আমি আগেও বলেছি বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট যে কেউ অনলাইনে কিনতে পারেন। রেলওয়ের ই-টিকেট সিস্টেম এ গিয়ে যে কোন ব্যক্তি তার তথ্য প্রদান করে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। বর্তমানে টিকেট যার, ভ্রমন তার এই শ্লোগানে শুদ্ধি অভিযান চলছে। মানে যিনি ভ্রমনকারী টিকেটে তার তথ্য থাকবে, যদিও এটির সাথে এ দেশের মানুষ তেমন একটা পরিচিত নয়, আর একজন ব্যক্তি একবারে সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট ক্রয় করতে পারবেন।

How to book tickets on Bangladesh Railway
Bangladesh Railway Online Ticket Web Portal

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট ওয়েবসাইটঃ

টিকেট কেনার আগে আপনাকে প্রথমেই বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট এর ওয়েবসাইট এ ভিজিট করতে হবে। eticket.railway.gov.bd এই সাইটে আপনি কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের মাধ্যমে ভিজিট করবেন। এরপর নিম্নোক্ত ধাপগুলো ফলো করুনঃ

 

রেলওয়ে ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করবেন যেভাবেঃ

১। প্রথমে আপনি রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ভিজিট করুন

২। রেজিষ্ট্রেশন করতে আপনি রেজিষ্ট্রেশন ট্যাব-এ ক্লিক করুন

৩। রেজিষ্ট্রেশন ফরমে আপনি আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য দিন যেমন আপনার নাম, ই-মেইল, ফোন নাম্বার, আইডি কার্ড (জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র)

৪। আপনি আপনার সকল তথ্যাদি দিয়ে ফরমটি ফিলাপ করলে আপনার ই-মেইল এ একটি মেইল যাবে যেখানে আপনাকে আপনার একাউন্ট এক্টিভেশন করার জন্য ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করলে আপনার একাউন্ট সচল হবে।

৫। এবার আপনি আপনার টিকেট কেনার প্রসেস করুন।

 

রেলওয়ে ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করবেন যেভাবে

রেলওয়ে ওয়েবসাইটে টিকেট ক্রয় করবেন যেভাবেঃ

যখন আপনার রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হবে তখন থেকেই আপনি আপনার যাত্রার জন্য নির্দিষ্ট দিনের টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে নিম্নোক্ত ধাপ গুলো পার করতে হবে।

১। সর্ব প্রথমে আপনি আপনার যে কোন ডিভাইস (ল্যাপটপ/মোবাইল) হতে রেলয়ের ই-টিকেট ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

২। লগইন ট্যাবে আপনি ক্লিক করে আপনার আইডি-পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন

৩। টিকেট ক্রয় করার জন্য আপনি আপনার যাত্রার স্টেশন, যে স্টেশন এ নামবেন, তারিখ এবং কোন ক্লাসে ভ্রমন করতে চান তা দিয়ে সার্চ করুন।

৪। এই ধাপে আপনার চাহিদা মোতাবেক উক্ত তারিখের সকল ট্রেনের ডিটেইলস আপনি পাবেন।

৫। আপনার পছন্দের ট্রেনের সিট আপনি দেখে বুক করার অপশন পাবেন, এবং সিলেক্ট করুন

৬। পরের ধাপে আপনাকে টিকেটের মূল্য পরিশোধ করার অপশনে নিয়ে যাবে, এখানে আপনি আপনার পেমেন্ট সিস্টেম সিলেক্ট করুন, কার্ড, ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে আপনি পেমেন্ট করতে পারবেন।

৭। পেমেন্ট করার পর আপনার ই-মেইল এ একটি ই-টিকেট এর তথ্য যাবে, সেটি প্রিন্ট করে আপনার যাত্রার স্টেশন হতে আপনার এই প্রিন্টেড কপি এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের একটি ফটোকপি দিয়ে আপনার মূল টিকেট সংগ্রহ করুন।

 

মনে রাখবেন আপনি এক বারে সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। যাত্রার সময় অবশ্যই আপনার মূল টিকেট আপনার সাথে রাখবেন। আপনার প্রতিটি যাত্রা নিরাপদ হোক এটাই আমার কাম্য। এই লিখাটি ভালো লাগলে আপনি কমেন্ট করে জানাবেন আর প্রিয় জনের সাথে এটি শেয়ার করতে ভুল করবেন না।

Ticket

Leave a Comment